নিবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৮

প্রেম বন্ধুত্বে প্রভাব ফেলে

প্রেমে পড়লে অন্যদের জন্য সময় কমে যায়, এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু তাই বলে দুটি বন্ধু ঝরে যাবে? শুনতে বেখাপ্পা লাগলেও একটি গবেষণার ফলাফল কিন্তু এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছাচ্ছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। নতুন প্রেম বর্তমান বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলোর ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, সেটিই ছিল এ গবেষণার দেখার বিষয়। এতে দেখা গেছে, যাদের পাঁচজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছে, ভালোবাসার মানুষ জীবনে আসার পর তারা দুই বন্ধুকে হারিয়েছেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এভোলিউশনারি অ্যানথ্রোপলজির প্রফেসর রবিন ডানবার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে—যারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে, তারা গড়ে পাঁচ বন্ধুর একটি পেন্টাগনের চেয়ে ভালোবাসার মানুষসহ চার জনের একটি চতুর্ভুজকেই পছন্দ করে।
রফেসর ডানবার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের বন্ধুদের নিয়েও স্টাডি করেছেন। তিনি জানাচ্ছেন, একজন মানুষের দেড়শ’ জনের মতো বন্ধু থাকা সম্ভব। একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট, যেমন ফেসবুকে একজন নিয়মিত ব্যবহারকারীর গড়ে ১২০-১৩০ জন বন্ধু থাকে। এদের আবার ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করা সম্ভব। ভাগ করতে করতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু পাওয়া যায় চার থেকে ছয় জন। এরা তেমন বন্ধু, যাদের সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত একবার দেখা হয়, কিংবা বিপদে-আপদে এরাই পাশে এসে দাঁড়ায়। এরপরেই আসে সহানুভূতি গ্রুপ, যাদের সঙ্গে মাসে একবার দেখা হয়। এদের সহানুভূতি গ্রুপ বলার কারণ হচ্ছে সে মারা গেলে এরা কষ্ট পাবে এবং তাকে মিস করবে। এই গবেষণার ফলাফল নিশ্চিত করেছে, প্রেমে পড়ার পর মানুষ ছোট নেটওয়ার্কের ভেতরে চলে আসতে চায় এবং এর প্রেক্ষাপটে তাদের দু’জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হারাতে হয়।
প্রফেসর রবিন ডানবার জানিয়েছেন, বন্ধুদের ওপর নতুন প্রেমের সম্পর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা অবশ্য প্রেমের গভীরতার ওপরও অনেকখানি নির্ভরশীল। প্রেম গভীর হলে বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিমাণও কমে যায়। এর কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, প্রেমে পড়ার পর মনোযোগ এককভাবে ভালোবাসার মানুষের দিকে এমনভাবে সরে যায়, অন্যদের জন্যও তার যে কিছু করার রয়েছে, বিষয়টি স্মরণ থাকে না। ফলে ক্রমেই সম্পর্কটি এক সময়ে ঝরে যায়।
আঠার কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সী ৫৪০ জনের ওপর এ গবেষণাটি চালানো হয়। গবেষণার ফলাফলটি সম্প্রতি অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটির ব্রিটিশ সায়েন্স ফেস্টিভালে উপস্থাপন করা হয়। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

 

এপ্রিল ফুল

এপ্রিল ফুল
বাক্যটা মূলত ইংরেজী। অর্থ এপ্রিলের বোকা। এপ্রিল ফুল ইতিহাসের এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল এলেই একে অপরকে বোকা বানানো এবং নিজেকে চালাক প্রতিপন্ন করার জন্য এক শ্রেণীর লোকদের বিশেষভাবে তৎপর হয়ে উঠতে দেখা যায়। বলা বাহুল্য যে তারা অপরকে বোকা বানিয়ে নিজেরা আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।


দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়
সর্বাধিক দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই যে, সরল প্রাণ মুসলমানগণ ধোঁকা-বাজির করুন শিকারে উপনীত হয়েছিল এইদিন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ মুসলিম জাতির এক শ্রেণীর লোকেরা সে ইতিহাস ভুলে গিয়ে এপ্রিলের দিনটিকে স্বাচ্ছন্দে অংশ গ্রহণ করছেন এবং প্রচুর কৌতুক ও রসিকতা উপভোগ করছেন। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আনন্দ উল্লাস উপভোগ করা হচ্ছে তা যে কত ভয়াবহ, কত নিষ্ঠুর, কত হৃদয় বিদারক, সে কথা ভাবতে অবাক হই, আর দেহ-মন হয়ে উঠে শিহরিয়ে।

৭১১ খৃস্টাব্দ
মুসলিম নৌবহর ভূমধ্য সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে বীরসেনানী নাবিক তারিক ঘোষণা দিয়ে ছিলেন যে, হে মুসলিম বাহিনী তোমাদের সম্মুখে শত্রুসেনা এবং পশ্চাতে ভূমধ্য সাগরের উত্তাল তরঙ্গ মালা, তোমরা কি ভূমধ্য সাগরে ডুবে নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করতে চাও? নাকি অত্যাচারি স্পেনীয় শাসক রডারিকের বিরুদ্ধে জেহাদ করে ইসলামের বিজয় নিশান স্পেনের বুকে উড়াতে চাও। যদি তাই হয় তাহলে সামনে অগ্রসর হও। এই রক্তস্তব্দ বক্তব্যের পর মুসলমানগণ মহান প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা’আলার নামে রডারিকের রনসম্ভারে সুসজ্জিত বিশাল বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিল এবং কেড়ে নিয়ে ছিল স্পেন। গড়ে উঠেছিল গ্রানাডার কর্ডোভায় আটশ বছরের আলোড়ন সৃষ্টিকারী সভ্যতা।

কিন্তু
মুসলিম শাসকরা যখন কুরআন ও সুন্নাহর কথা একেবারে ভুলে গিয়ে জন-সাধারণের সুখ-শান্তির মূলে পদাঘাত করে ভোগ বিলাসে মত্ত হয় তখন তারা হারিয়ে ফেলে ইসলামী চেতনা। তাদের এই দুর্বলতার সুযোগে খৃস্টানরা মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত হতে থাকে এবং ঘোষণা করে যে দুধর্ষ মুসলিম বাহিনীকে যদি হটানো না যায়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের সকল গীর্জা থেকে মুসলমানদের আজান ধ্বনী শোনা যাবে। এই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য ‘পর্তুগীজ’ রাণী ‘ইসাবেলা’কে পার্শ্ববর্তী রাজা “ফার্ডিন্যান্ডের” সাথে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হয়। ফলে উভয়ে নেতৃত্ব দেয় খৃস্টান বাহিনীর। একের পর এক স্পেনের অধিকাংশ এলাকা খৃস্টানদের দখলে চলে যায়। মুসলিম বাহিনী তখন উপায়ন্তর না পেয়ে আশ্রয় নেয় রাজধানী গ্রানাডায়। অবশেষে ফার্ডিন্যান্ড বাহিনীও গ্রানাডার দ্বার প্রান্তে এসে পৌঁছে যায়। মুসলিম বাহিনী তখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এ সময় ফার্ডিন্যান্ড ঘোষণা করে যে, “মুসলমানগণ যদি শহরের প্রবেশ দ্বার উম্মুক্ত করে দিয়ে এবং নিরস্ত্র অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করে, তবে তাদেরকে বিনা রক্তপাতে মুক্ত করা হবে”। অসহায় মুসলমানগণ আল্লাহর উপর ভরসা করার কথা ভুলে গিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়, এবং তাদের আশ্বাস অনুযায়ী মসজিদে আশ্রয় নেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কুখ্যাত ফার্ডিন্যান্ড মসজিদের চারি পার্শ্বে আগুন লাগিয়ে নৃশংসভাবে হাজার হাজার নিরপরাধ মুসলমানদেরকে হত্যার মাধ্যমে বিশ্বাস ঘাতকতার পরিচয় দেয়, এবং রক্তে রঞ্জিত করে গ্রানাডার রাজপথ, এবং তাদেরকে জোরপূর্বক খৃস্টান বানায়। যে দিন এ সব নির্মম নৃশংসতা কর্মকান্ড করে ছিল, সে দিন ছিল “১লা এপ্রিল ১৪৯২ সাল”। ফার্ডিন্যান্ড সে দিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে ছিল “হায় মুসলমান! এপ্রিল ফুল (অঢ়ৎরষ ভড়ড়ষ) তোমরা এপ্রিলের বোকা। স্পেনীয়দের দ্বারা মুসলমানদের ভড়ড়ষ বা বোকা বানানোর এই নিষ্ঠুর বিশ্বাস ঘাতকতা স্মরণীয় রাখার জন্য খৃস্টান জগৎ প্রতি বছর ১লা এপ্রিল এলে রসিকতার খেলা খেলে, যে খেলা আমাদের কাছে বড় করুণ আর বেদনাময়।

আর
আমরা মুসলমানরা উদ্দেশ্য এবং অর্থ না বুঝে প্রতি বছর ১লা এপ্রিল এলেই হৃদয় বিদারক ঘটনাকে চাপা দিয়ে আনন্দ উল্লাসে পরিণত করত: বিজাতীয় সংস্কৃতি পূজা করে চলছি। আসলে আজ আমরা আমাদের স্বর্ণঝরা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস থেকে বিছিন্ন। আলোচিত “এপ্রিল ফুল” খৃস্টানদের একটি বিশেষ ষড়যন্ত্র যা মুসলমানদের ঐতিহ্যে চরম আঘাত হানে। কেননা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মাণ হয় যে, তারা মুসলমানদিগের শুধু অত্যাচার নির্যাতন কংকাল সার এবং কাঙ্গালেই পরিণত করেনি বরং তারা কৌশলে আমাদের জাতীয় ইতিহাস ঐতিহ্যে ও আঘাত হানছে দিনের পর দিন। সে কথাও কারো অজানা নয়।

পরিশেষে
সকল মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান এই যে, সঠিক ইতিহাস-ঐতিহ্য শিক্ষা করত: প্রচলিত কু প্রথাকে উৎখাত করুন। এবং প্রকৃত ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ জীবন গঠন করুন। তবেই আমরা সত্যিকার মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকার সার্থকতা খুঁজে পাব।
হে আল্লাহ আমাদের সে ক্ষমতা ও তাওফীক দান করুন॥ আমীন

 

প্রিয় স্বাধীনতা

আমাদের এই দেশ, বাংলাদেশ একটি প্রাচীন জনপদ।
শস্য- শ্যামল, সুজলা- সুফলা এই বাংলাদেশের প্রতি সব সময়ই ছিলো বিদেশীদের চোখ।
এখানে ছিলো আগে গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ।
মাছে-ভাতে বাঙালিরা ছিলো সুখে- শান্তিতে ও আনন্দে।
কখনো এ দেশটি শাসন করেছে সেনারা, কখনো পালেরা। এক সময় শাসন করেছে দিল্লির সুলতানগন।
শায়েস্তা খাঁর আমলে এখানে টাকায় আট মন চাল পাওয়া যেতো।
এখানকার মসলিন কাপড় বিদেশে রফতানি হতো। ইউরোপের সব বড় বড় দেশ কাপড় আমদানি করত এ দেশ থেকে। এভাবেই এক সময় এ দেশের ওপর চোখ পড়ে ব্রিটিশ বেনিয়াদের।
তারা ব্যবসা করার নাম দিয়ে এ দেশে কোম্পানী খুললো ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী। তারপর এক সময় সুযোগ বুঝে এ দেশী চক্রান্তকারীদের সহায়তারয় বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবান সিরাজ উদ্দৌলাহকে হত্যা করে দখল করে নিলো সবুজ বাংলাকে। ঘৃণ্য এসব ষড়যন্ত্রকারীর মধ্যে সিরাজেরই আত্মীয় মীর জাফর আলী খান- মীর জাফর অন্যতম। টানা প্রায় ২০০ বছর ইংরেজরা এ দেশ শাসন করলো। পরাধীনতার শিকলে আটকে থাকলাম আমরা। আস্তে আস্তে আনেআদলন হলো, সংগ্রাম হলো, লড়াই হলো।
এলো স্বাধীনতা‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?’ভারত জুড়ে আন্দোলন সংগ্রাম হলো। গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতের স্বাধীনতার লড়াই শুরু হলো, আবার মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূখণ্ডের দাবিতে শুরু হলো কায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে ‘পাকিস্তানের’ দাবি।অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এলো। ভারত স্বাধীন হলো ১৫ আগস্ট। মনে হলো এবার মানুষ সুখি হবে, শান্তি পাবে, অধিকার ফিরে পাবে। পরাধীনতার নতুন রূপ ইংরেজ বেনিয়ারা বিদায় নিলো। পাকিস্তান স্বাধীন হলো, কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হলো না বাংলাদেশের মানুষের। বাংলাদেশ তখন ছিলো পাকিস্তানের পূর্ব অংশ- পূর্ব পাকিস্তান। এ অঞ্চলে মানুষ ছিলো সাড়ে চার কোটি। পশ্চিম পাকিস্তান ছিলো পাকিস্তানের রাজধানী। রাষ্ট্র চলতো ওখানকার লোকদের ইচ্ছে মতো। ১৯৪৮ সালেই তারা চাইলো আমাদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দিতে। বুকের রক্ত দিয়ে ৯৫২ সালে আমরা ভাষার অধিকার পেয়েছি। চাকরি- বাকরি সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রেও হলো অনুরূপ। সব বড় বড় পদ ওদের দখলে, এখানকার মানুষ ছিলো বঞ্চিত। কল-কারখানা, দালান-কোঠা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব দিক থেকেই পূর্ব পাকিস্তান পিছিয়ে ছিল। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালে নির্বাচন। নির্বাচনে জিতল আওয়ামী লীগ কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা তাদের হাতে দেয়নি। অবশেষে শুরু হলো স্বাধীনতার লড়াই, মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ২৫ মার্চের কালো রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নিরীহ নিরপরাধ বাংলাভাষী পুলিশ-বিডিআর সদস্যদের ওপর রাতের আঁধারে হামলা করলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঘোষিত হলো ‘স্বাধীনতা’!- ‘যাঁর যা কিছু আছে তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো”- এই আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলার শহর-গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র সংগঠিত হতে লাগলেন মুক্তিযোদ্ধারা। জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হলেন সর্বত্র। সাথে যোগ দিলেন মেজর জলিল, মেজর জিয়া, এ কে খোন্দকারসহ অন্যান্য সেক্টর কমান্ডারগণ। এ দেশের সাহসী সৈনিকেরা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী থেকে পালিয়ে এলেন। দেশের জন্য লড়াই করতে তাদেরসহ নিরস্ত্র মানুষদের নিয়ে গড়ে উঠলো মুক্তিযোদ্ধার দল। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে গেলেন ভারতে। ভারতীয় শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিলেন তারা। ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং নিলেন, রসদ ও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধে। এভাবে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হলো। অকুতোভয় মুক্তিসেনারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়থায় মরণপণ লড়াই করে কোনঠাসা করে ফেলল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল, এলো বিজয়ের সেই দিনটি। সারা বাংলাদেশে পত্ পত্ করে উড়তে লাগলো লাল-সবুজের পতাকা! বিজয় হলো মুক্তিযুদ্ধের। আমরা স্বাধীন হলাম, মুক্ত হলাম। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামক এক স্বাধীন ভূখন্ড। যা চেয়েছি তা পাইনি যা পেয়েছি তা চাইনি ১৯৭১ থেকে ২০১১। আমাদের স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হয়ে গেলো। মানুষের আয়ুর নিরীখে ৪০ বছর কম সময় নয়। কিন্তু আজো আমরা স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পাইনি।১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত আমরা পেয়েছি স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন দেশ কিন্তু আমরা দেখেছি দুর্ভিক্ষসহ লাঞ্চনা, গঞ্জনা!১৯৭৫ এ দেখেছি রাতের আঁধারে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবায়ক বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারের করুণ হত্যাকাণ্ড। ১৯৮১ -তে দেখেছি দেশের অন্যতম সফল শাসক জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড। ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত দেখেছি আবার সামরিক শাসন, স্বৈরাচার। ১৯৯১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দেশে পর পর ৪টি নির্বাচিত সরকার এসেছে। কিন্তু এত কিছুর পরও কি আমরা সত্যিকারের স্বাধীন দেশ ও জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি? আমাদের সাথে যাদের তুলনা হতে পারতো সেই মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড আজ উন্নত বিশ্বের সদস্য হয়েছে আর আমরা এখনো রয়ে গেছি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়েনি ঠিকই কিন্তু এ দেশে জন্ম নিয়েছে শত শত কোটিপতি। সাধারণ মানুষের জীবন মান বাড়েনি কিন্তু গড়ে উঠেছে প্রাসাদসম আবাসিক এলাকাসমূহ। শিক্ষার হার বেড়েছে কিন্তু বাড়েনি শিক্ষার মান। দুর্নীতি খেয়ে ফেলেছে আমাদের জাতির বিবেক। দেশপ্রেম হয়ে গেছে সস্তা শ্লোগান। আর গোটা জাতিকে আমরা করে ফেলেছি শতধা বিভক্ত। ছোট্ট বন্ধুরা! স্বাধীনতার এই দিনে আজ তাই এসো নতুন শপথে বলীয়ান হই। ভালবাসি এই দেশ, মাটি ও মানুষকে। এক হই, ঐক্যবদ্ধ হই, একমুখী হই। গড়ে তুলি একটি সুন্দর বাংলাদেশ, একটি সুজলা বাংলাদেশ, একটি সুফলা বাংলাদেশ। একটি আধুনিক বাংলাদেশ হোক আমাদের সাধনার লক্ষ্য।

 

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ভালোবাসা কি দিবস নির্ভর?

পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এখন বাংলাদেশেও ১৪ই ফেব্রুয়ারি “ভ্যালেন্টাইনস্ ডে তথা ভালবাসা দিবস” পালন করা হচ্ছে। তথাকথিত প্রেম পিয়াসী তরুণ তরুণীরা নানা ধরনের অশ্লীলতা বেহায়াপনা ও নোংরামির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশে প্রথম এ দিবসটি আমদানী করে তৎকালীন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান।

সোমবার, ২৩ মে, ২০১৬

শবে বরাত প্রসঙ্গে

একটা কমন কথা, 'ফরজের খবর নাই, নফল নিয়ে টানাটানি!'
শবে বরাত কোরআন - হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। অল্প আমলে বেশি নেকি লোভী আর অল্প আমলে বেশী নেকির সুসংবাদ প্রদানকারী পীরদের সৃষ্ট একটি বিদআত এটি। আর আমরা যেহেতু কম কষ্ট করে কোটি কোটি নেকি পেতে চাই সেহেতু আমরা এটিকে খুব সাদরে গ্রহণ করে নিই।
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সঃ)
বলেছেনঃ "যে ব্যাক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কথা উদ্ভাবন করল, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" [বুখারী; মুসলিম]
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল (সঃ) বলেছেন "নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম রীতি মুহাম্মাদ (সঃ)- এর রীতি। আর নিকৃষ্টতম কাজ (দ্বীনে) নব আবিষ্কৃত কর্মসমূহ এবং প্রত্যেক বিদ’আত ভ্রষ্টতা’।"
[মুসলিম; নাসায়ী; আবু দাউদ; ইবনে মাযাহ; আহমাদ]
হাদীস গুলো বাদ দিলাম। আল্লাহ কি বলেছেন দেখুন।
"আমি কিতাবে কোন কিছু লিপিবদ্ধ করতে ত্রুটি করিনি।" [আনআম ৩৮]
যেহেতু আল্লাহ নিজেই বলেছেন তিনি কোন কিছু লিপিবদ্ধ করতে ক্রুটি করেননি, সুতরাং শবে বরাত বলে কিছু থাকলে কথিত ফযিলত পূর্ণ রাত সম্পর্কে আল্লাহ একটি আয়াত হলেও উল্যেখ করতেন অথবা হাদীসের বর্ণনা পাওয়া যেত। আল্লাহ মানুষকে সরলপথ দেখিয়ে বলেছেন,
"নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ। সুতরাং এরই অনুসরন করো এবং ভিন্ন পথ অনুসরন করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।" [আনআম ১৫৩]
সুতরাং এ পরিস্থিতিতে আমরা কি করবো সে কথা কোরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন,
"আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" [নিসা ৫৯]
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ
"বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসতে চাও, তাহলে আমার অনুসরণ করো। ফলে আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমুহ ক্ষমা করে দিবেন।" [আলে ইমরান ৩১]
আসুন, দ্বীনে নতুন আনিত বিদআত সমূহ থেকে আমরা বিরত থাকি, সত্য দ্বীনের উপরে অটল থাকি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ্ বুঝ দানের তৌফিক দিক, তার প্রিয় বান্দাদের দলভূক্ত করুক, আমিন।

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মাদকের সহজ লভ্যতায় শিক্ষিত তরুণ তরুণীরা এদিকে ঝুঁকে পড়ছে

মাদক হচ্ছে মরনঘাতি কতগুলো নেশা জাতীয় দ্রব্য, যা মানুষ একবার আসক্ত হলে এর করাল গ্রাস থেকে ফিরে আসতে চাইলেও সহজে ফিরে আসা যায় না। মাদক ধ্বংস করে দেয় ফুলের মত কত গুলো মানুষের জীবন। যারা এ মাদক সেবন করে তারা তাদের জীবনের প্রতি জুলুমই করেনা বরং সমাজের অভিশাপও বটে! যারা মাদক পাচার ও ব্যবসার সাথে জড়িত তারা শুধুই নিজেদের বিবেকের বিসর্জন নয় বরং গোটা জাতি কে ধ্বংসের  মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা গোটা জাতির  কাছে তাদের মস্তিষ্ককে পদদলিত করেছে।

ভালবাসা দিবস | কিছু কথা

পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এখন বাংলাদেশেও ১৪ই ফেব্রুয়ারী "ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস" পালন করা হচ্ছে। তথাকথিত প্রেম পিয়াসী তরুণ তরুণীরা নানা ধরনের অশ্লীলতা বেহায়াপনা ও নোংরামির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে।

ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবে যে দুটি মত বেশী গ্রহণযোগ্য তা হল-

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১১

শব-ই-কদরের গুরুত্ব

‘‘ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতুল কাদরে। ওয়ামা আদরাকা মা লাইলাতুল কাদরে। লায়লাতুল কাদরে, খায়রুম মিন আলফে সাহরিন। তানাযযালুল-মালায়িকাতো ওয়াররুহো ফিহা বিইযনি রাবিবহিম মিন কুল্লি আমরিন। সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলায়িল ফাজরি।’’ (সুরা কাদর ১-৫ আয়াত) ইরশাদ হচ্ছে- ১। আমি ইহা অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে; ২। আর মহিমান্বিত রজনী সম্বন্ধে তুমি কি জান?

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১১

প্রধানমন্ত্রীকে ফ্রুটিকা খাওয়াবে কে ?

অনেকদিন আগে বাস করতো এক দুরুন্ত বিড়াল। তার জ্বালায় ঈঁদুররা কেহ শান্তিতে বসবাস করতে পারতো না। তার অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যায়। ঈদুরগুলি সবসময় একটা আতংকের মাঝে বসবাস করতে হতো।
তেমনি ভাবে মানচিত্রের মাঝে একটা ছোট দেশ ‘বাংলাদেশ’। এখানেও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের জন্য কেহ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে না। বিরোধী দলের উপর সব সময় হামলা-মামলা লেগেই আছে। করছে গরীব অসহায়দের হয়রানী। মা-বোনেরাও তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। প্রতিদিনই কোন না কোন বোনের ইজ্জত লুন্ঠিত হচ্ছে ধর্ষনে সেঞ্চুরিয়ানদের হাতে।
বিড়ালের অত্যাচারে যখন সকলে অতিষ্ঠ তখন সকল ঈদুর মিলে এক জরুরী সভার আয়োজন করে। এখানে বিড়ালের অত্যাচারের কথা উপস্থাপন করা হয়। কে তার হাতে কি অত্যাচারের শিকার হয়েছে তা সবিস্তারে বর্ণনা করেন। কে কখন কি করে তার মুখে পড়েছেন..... কি করে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছেন কিংবা কোনমতে বেঁচে গেছেন তার কিছুই বাদ যায়নি। সমস্যা গুলি জানি কিন্তু তা থেকে বাচাঁর উপায় কি তা আমাদের বের করতে হবে- বলল একটি প্রভাবশালী ইদুর।
এদেশেও যখন অত্যাচারের সীমা অতিক্রম করছে..... আর সহ্য করা যাচ্ছেনা তখন সমাজের সকলে গোপনে এক জরুলী সভায় মিলিত হয়। এখানেও তাদের অত্যাচারের লোমহর্ষক ঘটনা গুলি ফোটে উঠে। কিন্তু এ থেকে আমাদের বাঁচার জন্য ভাবতে হবে এখনই। কি করে তার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা নিয়ে নানা জনে নানা কথা বলে কিন্তু কারো কথাই মন মতো হয়না বিধায় কোন সিদ্ধান্তেও তারা আসতে পারেনি।
অনেক জনের অনেক প্রস্তাবের পরও যখন মন মতো হলোনা তখন একজন প্রস্তাব করলো- ‘বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধলে কেমন হয়, সে যখন হাটবে কিংবা আমাদের দিকে আসবে তখন আমরা সতর্ক হতে পারবো’। তার বক্তব্য শুনে একটি বৃদ্ধ ইঁদুর বললো- ‘সবই বুঝলাম, কিন্তু ঘন্টাটা বাঁধবে কে’ বলে সে উঠে চলে গেল।
তেমনি ভাবে একজন প্রস্তাব করলো- ‘আমি একটি বিজ্ঞাপনে দেখেছি, শুধু আমি নই, অনেকেই দেখেছে যে একজন নেতা যখন কোন প্রতিবাদ সভায় ভাষন দিচ্ছিল তখন তাকে একজন ফ্রুটিকা খাওয়ালে সে অনবরত সত্য বলে দেয়...... আমি ধারনামতে আমাদের মহামান্য নেতাদের যদি ফ্রুটিকা খাওয়াই দিতে পারি তবে তারা কি করবে তা সত্য বাহির হয়ে পড়বে। ফলে আমরা সতর্ক হয়ে যেতে পারবো’। লোকটির কথা সবার মন মতো হয়। কিন্তু একজন বৃদ্ধলোক এর বিরোধিতা করে। বৃদ্ধ লোকটি বলে ‘এটা কি করে সম্ভব যে ফ্রুটিকা খাওয়ালে সে সত্য গুলি বলে দেবে। আচ্ছা মানলাম না হয় তাদের ফ্রুটিকা খাওয়াবো। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রতিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সকল ক্ষমতাশীন এমপি-মন্ত্রীদের ফ্রুটিকা খাওয়াবে কে’? বলে বৃদ্ধটি উঠে চলে গেল...

Share

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites